২০২৬ সাল শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৯০০ ডলার ছাড়াতে পারে। মূল্যবান ধাতুটির বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকলেও বিপরীত চিত্র দেখা যাবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে। প্রায় সব বাজার আদর্শেই দাম কমবে পণ্যটির। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে ২০২৭ সালের শেষ প্রান্তিকের আগ পর্যন্ত। ব্যবহারিক ধাতুর বাজারে কিছুটা কমতে পারে তামার দাম। মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের এক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খবর রয়টার্স।
স্বর্ণের দামকে আগামী বছর ঊর্ধ্বমুখী করে রাখবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা ও মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানোর সম্ভাবনা। গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান মূল্যস্তরের তুলনায় আগামী বছর স্বর্ণের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ বাড়তে পারে। তবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সম্পদ বৈচিত্র্যকরণের প্রবণতা আরো বিস্তৃত হলে মূল্যবান ধাতুটির দাম আরো বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২৬ সালের বৈশ্বিক পণ্যবাজার নিয়ে প্রকাশিত এক নোটে গোল্ডম্যান স্যাকস আরো জানায়, বড় ধরনের সরবরাহ বিঘ্ন বা উৎপাদন হ্রাস না হলে জ্বালানি তেলের দরপতনের ধারা সামনের দিনগুলোয়ও অব্যাহত থাকবে। ২০২৬ সালে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের গড় দাম নেমে আসতে পারে যথাক্রমে ব্যারেলপ্রতি ৫৬ ও ৫২ ডলারে।
তবে ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধে জ্বালানি তেলের বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যাংকটির বিশ্লেষকরা। তাই ২০২৭ সালের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) পণ্যটির দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। ব্যাংকটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম পৌঁছতে পারে যথাক্রমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ও ৭৬ ডলারে।
একই নোটে ব্যাংকটি আরো জানায়, ২০২৬ সালে তামার গড় দাম হতে পারে টনপ্রতি ১১ হাজার ৪০০ ডলার। এছাড়া শুল্কসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ২০২৭ সালে পরিশোধিত তামার ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিতে পারে।
ব্যাংকটির বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুতায়ন প্রক্রিয়া জোরদার হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে তামার চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। তবে চাহিদার তুলনায় ধাতুটির উত্তোলন কমে যেতে পারে।
প্রাকৃতিক গ্যাসের বৈশ্বিক বাজার সম্পর্কে গোল্ডম্যান স্যাকস জানিয়েছে, ইউরোপের টাইটেল ট্রান্সফার ফ্যাসিলিটিতে (টিটিএফ) ২০২৬ সালে জ্বালানি পণ্যটির ঘণ্টায় প্রতি মেগাওয়াটের দাম হতে পারে ২৯ ইউরো। ২০২৭ সালে ২০ ইউরো হতে পারে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ ও ২০২৭ সালে প্রতি এমএমবিটিইউ প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম হতে পারে যথাক্রমে ৪ ডলার ৬০ সেন্ট ও ৩ ডলার ৮০ সেন্ট। অভ্যন্তরীণ উত্তোলনে প্রণোদনা দিতে দাম বাড়ানো হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হওয়ায় নবায়নযোগ্য ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি চাহিদা মেটাতে পারছে না। ফলে বিদ্যুৎ খাতে ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এতে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম আরো ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।